মােনার্ক প্রজাপতির মহাকাব্যিক সফর || Page-100

 

 মােনার্ক প্রজাপতির মহাকাব্যিক সফর



 শুয়ােপােকা কি উড়তে পারে?


 পারে, যখন প্রজাপতি হয়। শুয়ােযুক্ত কদাকার দেহ ত্যাগ করে যে সম্পূর্ণ নতুন, রঙে বর্ণে চিত্রিত সুন্দর একশরীর ধারণ করে প্রজাপতি। বিবর্তনের ফলে কিভাবে তারা এই টেকনােলজি আয়ত্ত করেছে, তা জীববিজ্ঞানীদের কাছে এক অন্যতম দুর্ভেদ্য রহস্য।


উত্তর আমেরিকার মােনার্ক প্রজাপতি বিজ্ঞানীদের কাছে আবার নূতনতর বিস্ময় সংযােজন করেছে। উত্তর কানাডা থেকে শীতকাল এড়াতে প্রতি বছর শরতে এরা পাড়ি দেয় এক লম্বা দুরত্ব 2000-3000 কিলােমিটার, পৌঁছায় আমেরিকার ক্যালিফোর্ণিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে এবং মেক্সিকোতে। কোটি কোটি সংখ্যায়। নির্দিষ্ট কিছু কিছু গাছে এরা হাজারে হাজারে পাতার মতাে ঝুলে থাকে – তাদের দেখতে ভ্রমণকারীরা আসে দূর দূরান্ত থেকে। প্রতি বছর এরা একই গাছে আসে।



কিন্তু মজার বিষয় হল, যারা ঐখান থেকে এই বৎসর গেল, তারা আর ফিরে আসে না। কেননা  এক বছরে মােনার্ক প্রজাপতির চারটি প্রজন্ম অতিবাহিত হয়। যাত্রা করতে করতে এরা বিভিন্ন গাছে ডিম পাড়ে। তার থেকে শুয়ােপােকা প্রজাপতি হয়, তারা চলতে থাকে। মােনার্ক-প্রজাপতি তিন মাস থেকে দশ-বারােমাস বাঁচে, তাই যাত্রাপথেই বড়রা মারা যায়। 

এইভাবে, পরের বছর যখন তারা ফিরে আসে, তখন তারা দুরত্ব অতিক্রম করেছে ৪-৬ হাজার কিলােমিটার, তার মধ্যে তাদের গত হয়েছে অন্ততঃ তিনটি প্রজন্ম – এসেছে নতুনেরা। কোন গাইড বা ম্যাপ ছাড়াই তারা এসে বসছে একই গাছে --তাদের প্রপিতামহ/মহীরা যেসব গাছে রেস্ট করেছিলাে, সেখানেই।


 তাদের এক গ্রামের বেশ কয়েক ভাগের একভাগ আকারের মস্তিষ্কের অতিসূক্ষ্ম ম্যাগনেটিক কম্পাসের শক্তি এতদূর যে তারা পাঁচ হাজার কিলােমিটার নির্ভুল লক্ষ্যে চলতে পারে এটা যদি মেনে নেওয়া যায়, তাহলে বলতে হয় তাদের প্রথম কম্পাস-আবিষ্কারক পূর্বপুরুষটি নিঃসন্দেহ পদার্থবিজ্ঞানে নােবেল পাওয়ার অধিকারী।

 কিন্তু যদি মাঝখানে চলে যায় কয়েক প্রজন্ম, তখন এই ডেটা-ট্রান্সফার বা তথ্য-স্থানান্তরের ওয়ারলেস সফটওয়ার মেকানিজম তারা কোথা থেকে কিভাবে পেল বা উদ্ভাবন করল ? উত্তর খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।


Click Here >>>Subscribe






Comments

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner