Page

Follow

স্নায়ুর টেলিগ্রাফিক নেটওয়ার্ক বিদ্যুতের চূড়ান্ত শৈল্পিক ব্যবহার || Page-92

  স্নায়ুর টেলিগ্রাফিক নেটওয়ার্ক ঃ বিদ্যুতের চূড়ান্ত শৈল্পিক ব্যবহার



স্নায়ুর  টেলিগ্রাফিক নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে শরীরের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ, যেমন দেখা, শােনা, গন্ধ শোঁকা, স্পর্শ, অঙ্গ সঞ্চালন, চিন্তা, অনুভব পুষ্টিক্রিয়া ইত্যাদি। বিভিন্ন কাজের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্নায়ু।


ধরুন চলতে গিয়ে আপনার পায়ে একটি কাঁটা বিঁধল; মুহূর্তে বিদ্যুৎ বেগে সেই সংবাদ পৌঁছে গেল মস্তিষ্কে। স্নায়ুরাই সম্মিলিতভাবে এই অসাধ্য সাধন করে থাকে, সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে সংবাদ পৌছে যায় মস্তিষ্কে। অথচ এই কাজটি মােটেই অতি সাধারণ নয়। হাজার হাজার পরস্পর বিচ্ছিন্ন স্নায়ু এই ইম্পালসটি বহন করেছে বিভিন্ন সাইন্যাপসের মধ্য দিয়ে, মুহুর্তে, ঘন্টায় ২৫০-৩৭৫ কিমি বেগে (বা সেকেন্ডে প্রায় ৭৬-১২০মিটার)। এজন্য স্নায়ুর টেলিগ্রাফিক নেটওয়ার্ক ঃ বিদ্যুতের চূড়ান্ত শৈল্পিক ব্যবহার


স্নায়ুর  টেলিগ্রাফিক নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে শরীরের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ, যেমন দেখা, শােনা, গন্ধ শোঁকা, স্পর্শ, অঙ্গ সঞ্চালন, চিন্তা, অনুভব পুষ্টিক্রিয়া ইত্যাদি। বিভিন্ন কাজের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্নায়ু।


ধরুন চলতে গিয়ে আপনার পায়ে একটি কাঁটা বিঁধল; মুহূর্তে বিদ্যুৎ বেগে সেই সংবাদ পৌঁছে গেল মস্তিষ্কে। স্নায়ুরাই সম্মিলিতভাবে এই অসাধ্য সাধন করে থাকে, সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে সংবাদ পৌছে যায় মস্তিষ্কে। অথচ এই কাজটি মােটেই অতি সাধারণ নয়। হাজার হাজার পরস্পর বিচ্ছিন্ন স্নায়ু এই ইম্পালসটি বহন করেছে বিভিন্ন সাইন্যাপসের মধ্য দিয়ে, মুহুর্তে, ঘন্টায় ২৫০-৩৭৫ কিমি বেগে (বা সেকেন্ডে প্রায় ৭৬-১২০মিটার)। এজন্য ব্যবহৃত হয়েছে বিশেষ ও সুপরিকল্পিত প্রযুক্তি, ব্যবহৃত হয়েছে নির্দিষ্ট ভােল্টেজের বিদ্যুৎ। 


মানব মস্তিষ্ক প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি স্নায়ু বা নিউরােনের একটি জটিল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে, এবং এই নেটওয়ার্কে ২৭৫ থেকে ৩৭৫ কি.মি. প্রতি ঘন্টায় তথ্য বহন বা ইনফরমেশান ট্রান্সফারের জন্য যে ইলেকট্রিকাল ইম্পালস্ সৃষ্টি হয়, তার পরিমাণ পৃথিবীর সমস্ত টেলিফোন লাইন একত্রিত করলে যত উৎপন্ন হবে, তার চেয়েও বেশি।


 এই ১০ হাজার কোটি নিউরােন বা স্নায়ুর নেটওয়ার্ক যে বায়াে ইলেকট্রিসিটি উৎপন্ন করে, তা ১২০ ভােল্টের অতিকায় ব্যাটারি থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের চেয়ে বেশি। আর একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে মােট স্নায়ুকোষের সংখ্যা প্রায় ৩,০০০,০০০,০০০, অর্থাৎ ৩ লক্ষ কোটি।



স্তন্যপায়ীদের একটি স্নায়ুতন্তু, অ্যাক্সন ১-২০ মাইক্রোমিটার লম্বা (১ মাইক্রোমিটার হচ্ছে ১মিটারের ১ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ)।কিন্তু এত ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও এর অদ্ভুত কার্যকারিতার জন্য রয়েছে বিশেষ ডিজাইন। সােডিয়াম আয়ন (Nat) এবং পটাসিয়াম (K') -এর ঘনত্ব ও ব্যবধান ব্যবহার করে

ইলেকট্রিসিটি উৎপন্ন হয় প্রতি স্নায়ুর অ্যাক্সনে এবং নিউরােট্রান্সমিটার মলিকিউলসের দ্বারা প্রেরিত হয় সংবাদ। 


প্রতি সেকেন্ডে সর্বাধিক 200 Na আয়ন ও130 K আয়ন স্নায়ুকোষের ভিতরে / বাইরে প্রবেশ ঘটে নিউরােনের নির্দিষ্ট চ্যানেল দিয়ে; এইভাবে কেবল একটি ছােট নিউরােনে ১০ লক্ষ সােডিয়াম আয়নের যােজন-বিয়ােজন ঘটে।



যখন কোনাে উদ্দীপন বা নার্ভ ইমপালস আসে, তখন স্নায়ুর মেমব্রেন উদ্দীপিত হয় এবং আয়নিত বিদ্যুৎ 20 mv (my=মিলি ভােল্ট) হয়, তখন সেটি ‘Threshhold’ বা দ্বারপ্রান্তে পৌছায়। মেমব্রেন যখন ভােল্টেজ -70mv থেকে -50mv তে পরিবর্তিত হয়,তখন স্নায়ুপদায় Na ও K আয়নের ভেদ্যতার তারতম্য ঘটে প্রথমে দ্রুত সােডিয়াম আয়ন স্নায়ুকোষে প্রবেশ করতে থাকে। যখন স্নায়ুর ভিতর ইলেকট্রিসিটি পােটেনশিয়াল +20mv হয়, তখন K আয়ন প্রবেশ করে বেরিয়ে আসতে থাকে এবং পূর্বাবস্থায় (Resting alue) ফিরে যায়।


 স্নায়ুর উদ্দীপনা কাল বা অ্যাক্টিভেশান পিরিয়ড স্থায়ী হয় মাত্র ১ মাইক্রোসেকেন্ড । (১ সেকেন্ডের ১ লক্ষ ভাগের ৩ ভাগ), এই সময়ে স্নায়ুর কোষ পর্দায় বাহিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ পরিমাণ দাঁড়ায় 100mv ; এইভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় স্নায়ুঝিল্লির বাইরে পজিটিভ বা ধনাত্মক বিভব থাকে,মধ্যে থাকে নেগেটিভ বা ঋণাত্মক বিভব। 


Na+ আয়ন ট্রান্সফারের ফলে বিপরীত বিভবের সৃষ্টি হয়, তৈরী হয় তড়িৎবর্তন বা ইলেকট্রিক সার্কিট। মায়ােলিনযুক্ত স্নায়ুতে এই বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ঘটে নৃত্যগ পদ্ধতিতে, যাকে বলে সলটেটোরি কন্ডাকশান। স্নায়ুগুলি রিচার্জড় হয়ে যায় এক সেকেন্ডের ২০০০ ভাগের ১ ভাগ সময়ের মধ্যে।


মায়েলিন ও  রেনভিয়ার পর্বযুক্ত স্নায়ুর টেকনােলজিতে রয়েছে আরও অদ্ভুত বিশেষত্ব।। শরীরে যেখানে প্রয়ােজন সেখানে এই মায়ােলিন রাসায়নিকের আবরণ বা ‘কোট’যুক্ত  স্নায়ু  ব্যবহৃত হয়, যার ফলে যা দ্রুতগতির পরিবাহিতার সৃষ্টি হয় (সলটেটোরি কন্ডাকশান)। এর ফলে স্নায়ুপ্রবাহের গতি সাধারণ স্নায়ুর চেয়ে ৫০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।




একটি স্নায়ু  থেকে সংবাদ বাহিত হয় (Information Transfer) পরবর্তী স্নায়ুতে, এর সংযােগস্থলকে বলা হয় সাইন্যাপ্স । এদের মধ্যে অল্প ব্যবধান থাকে (১০-৫০ ন্যানাে মিটার), বিশেষ রাসায়নিক ক্ষরণে সংবাদ বাহিত হয় পরবর্তী স্নায়ুর অ্যাক্সনে। প্রত্যেক স্নায়ুর আবার নিউক্লিয়াস,ডি.এন.এ. কোটি কোটি নিউক্লিওটাইডের সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁতবিন্যাস –সবই রয়েছে। আমাদের প্রতিটি ইন্দ্রিয়ের সংবেদন মস্তিষ্কে বয়ে নিয়ে যায় স্নায়ু । অত্যন্ত জটিল, নিখুঁত ও অভাবনীয় সেই ব্যবস্থা। 


উদাহরণস্বরূপ আমাদের সাউন্ড রিসেপ্টর বা শব্দ গ্রাহক যন্ত্র কানের কথাই ধরা যাক।

• শব্দগ্রাহক স্নায়ুগুলির প্রতিটির দৈর্ঘ্য 2.5 সেমি। 

• অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার, নিউক্লি-তে স্নায়ুর সংখ্যাঃ 8,800

• কানের ইনফেরিয়ার কলিকুলাসে স্নায়ুর সংখ্যা : 3,92,000

 • কানের মেডিয়াল জেনিকুলেট বডিতে স্নায়ুর সংখ্যাঃ 5,70,000

• মস্তিষ্কের শব্দসংবেদী কর্টেক্সে স্নায়ুর সংখ্যা : 10 কোটি। 


এইভাবে, স্নায়ুগুলির সুনির্দিষ্ট বিন্যাস ও সমন্বয়ে পূর্ণবয়স্ক মানুষের কান 20 থেকে 20,000 হার্টজ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ শুনতে পায়। পুরাে ব্যবস্থা, অডিটরি সিস্টেম, নিখুঁত ও জটিল টেকনােলজির নিদর্শন।



প্রতিটি ইন্দ্রিয়ের কাজের জন্য রয়েছে স্নায়ু বা নিউরােনের বিশেষ বিশেষ ডিজাইন। যেমন দর্শনেন্দ্রিয়ের স্নায়ু বা অপটিক নার্ভস – এবং ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের স্নায়ু

- অলফ্যাকটরি রিসেপটর সেল—নিউরােন-এর কার্যকলাপ ভিন্ন । নিখুঁত সুরে বাঁধা। চোখের ১৩ কোটি ফোটোরিসেপটর থেকে ৩০ লক্ষ অপটিক স্নায়ু আলােক সংবেদ বয়ে নিয়ে যায় মস্তিষ্কে এবং প্রায় ১০ লক্ষ অডিটোরি নিউরােন শব্দ-মানচিত্র বয়ে নিয়ে যায় মস্তিষ্কে। এইভাবে ৩,০০০,০০০,০০০,০০০ অর্থাৎ ৩ লক্ষ কোটি স্নায়ুর নেটওয়ার্কের সাহায্যে চলে শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ। হরমােন নিঃসরণ ঠিক রাখা, প্রতি মিনিটে লক্ষ লক্ষ কোষ বিভাজন ঠিক রাখা ইত্যাদি অসংখ্য কাজ।।





Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline