Page

Follow

বিজ্ঞানের যুগে বিশ্বসভ্যতা ,পারমার্থিক অন্ধত্ব,PAGE-23

 

 

পারমার্থিক অন্ধত্ব

PAGE-23



 হাভার্ড ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সােসিওলজির পূর্বতন চেয়ারম্যান পি. সােরােকিন ইউরােপীয় রেনেশাঁর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের যুগ থেকে যে সভ্যতার উদ্ভব হয়েছে, তাকে “Sensate” বলে অভিহিত করেছেন। 



Sensate' শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘Perceived by a sense or the senses' 

 এবং Having physical sensation'-অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে পরিলক্ষিত’ এবং শারীরিক ইন্দ্রিয়-সংবেদন লাভ’।


‘সেনসেট’ শব্দের বাংলা করা যায় ‘ঐন্দ্ৰিয়িক’, ইন্দ্রিয়সংবেদগত’ বা শরীরি-তৃপ্তিগত। সােরােকিন ব্যাখ্যা করেন যে এই শরীরি বা ঐন্দ্ৰিয়িক সংস্কৃতি, সেনসেট কালচার “is based upon the ultimate principle that..... beyond the reality and values which we can see, hear, smell, touch, and taste there is no other reality and no real values.


” অর্থাৎ আমরা যা দেখতে, শুনতে, শুঁকতে , স্পর্শ করতে ও আস্বাদ করতে পারি, তার বাইরে আর কোনাে বাস্তবতা নেই এবং কোনাে প্রকৃত মূল্যবােধ বলেও কিছু নেই”। 


এইভাবে গড়ে ওঠে সেনসেট সােসাইটি, ইন্দ্রিয়সংবেদনলিপ্সু সমাজ, যে সমাজ "Intensely cultivates scientific knowledge of the physical and biological properties of sensory reality” 


—অর্থাৎ “গভীরভাবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাস্তবতার ভৌত ও জৈব উপাদানগুলির বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অনুশীলন করে। এমনকি, সােরােকিন বলেন, মুখে ভগবানের কথা বললেও এই সেনসেট সভ্যতায় মানুষের গভীর আগ্রহ নিহিত কেবল ইন্দ্রিয়গত মূল্যে, ইন্দ্রিয়জ সুখ পরিতৃপ্তিতে, দেহজ ভােগবিলাসে, স্বাস্থ্য, সম্পদ,শক্তি, ক্ষমতা অর্জনেঃ “Despite its lip service to the values of the kingdom of God, it cares mainly about the sensory values of wealth, health, bodily comfort, sensual pleasures, and lust for power and fame. Its dominant ethic is invariably utilitarian and hedonistic.” 



এর অনিবার্য পরিণাম, সেরােকিন বলেন, নজিরবিহীন হিংসা, বিংশ শতাব্দীতে আমরা যা দেখেছি। বর্তমানে এই হিংসা নিবদ্ধ হয়েছে এই গ্রহেরই অভিমুখে। 


সেনসেট বিজ্ঞানীদের অবিরাম প্রয়াসের ফলে উদ্ভাবিত ও পরিশীলিত নৈতিক দায়দায়িত্বহীন নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও ক্রিয়াকলাপ ক্রমেই বৃদ্ধি করছে ধ্বংসােন্মুখতা ...“increasing destructiveness of the morally irresponsible sensate scientific achievements ....... invented and continuously perfected by the sensate scientists.”


 এই সেনসেট কালচারের স্থল বস্তুতান্ত্রিকতা মানুষের সামগ্রিক চিন্তাভাবনা ক্রিয়াকলাপকে কেবল ইন্দ্রিয় ‘ভােগায়তন’স্থূল শরীরে কেন্দ্রীভূত করেছে। দেখা দিয়েছে স্থূল জড়.নয় এমন সব কিছুতে অবিশ্বাস —যেমন চেতন জীবন-সত্তা বা আত্মা। 



এভাবে নিজেকে বিশ্বাস করে না যন্ত্রযুগের মানুষ, কেননা আত্মাই প্রকৃত ব্যক্তি, দেহটি অচেতন জড়পদার্থের সমাহার, অস্থায়ী, ধ্বংসশীল। এইভাবে মানুষ আত্মপ্রবঞ্চক ও আত্মঘাতী হয়ে উঠেছে, হয়েছে পারমার্থিক জ্ঞানশূন্য ও ভগবদ্বিমুখ।।



 পশু সমাজ ও মানব সমাজ ও মৌল পার্থক্য ;;---


 পশু সমাজে সংবিধান নেই, তারা ধর্মীয় নীতি নিয়ম অনুসরণ করে না। এবং তাদের জ্ঞান লাভের জন্য কোনাে স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি নেই। পশু সমাজ জ্ঞানের ভিত্তিতে চলে না।


বাঁদর  বা সিংহের ক্লাসরুমে বসে জ্ঞান নেবার ক্ষমতা নেই, স্বভাবের উপর তার নিয়ন্ত্রণ নেই। এজন্য পশু সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রকৃতি। বছরের বিশেষ সময়ে তারা বংশবৃদ্ধি করে, তাদের আচার-আচরণ প্রকৃতি-নির্ধারিত। 


তাদের জীবনের উদ্দেশ্য চারটি দেহজ প্রবৃত্তির তৃপ্তিঃ খাওয়া বা আহার (Eating) আশ্রয় বা নিদ্রা (Shelter) আত্মরক্ষা বা ভয় (Defence) এবং যৌনতৃপ্তি বা মৈথুন (Mating) । এগুলি দেহের প্রবেগ (bodily propensities' শ্রীল প্রভুপাদ)।


 পশুদের জীবনের উদ্দেশ্য ইন্দ্রিয়তৃপ্তি, সেজন্য তাদের সামাজিক বিধি নিয়ম পালনের মাধ্যমে প্রবৃত্তির সংস্কার বা সংস্কৃতি নেই।


আধুনিক সভ্যতার লক্ষ্য কি? নশ্বর জড়দেহের প্রয়ােজনগুলি প্রবলভাবে চরিতার্থ করা। লক্ষ্য কেবল আহার, নিদ্রা, ভয়, আর মৈথুন—এগুলির জন্য বিপুল আয়ােজন।


শ্রীল এ.সি.ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই চারটি প্রবেগকে কেন্দ্র করে প্রগতির হিসাব কষা এই সমাজকে পাশবিক সমাজ বলতে দ্বিধা করেননি আমেরিকা, ইংল্যাণ্ড অস্ট্রেলিয়া, জাপানের মতাে উন্নত দেশে দাঁড়িয়েও। 


অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন বিভাগের কিছু কর্তাব্যক্তি যখন তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি আবার তৃতীয় বিশ্ব থেকে এই উন্নত অস্ট্রেলিয়ায় কিভিক্ষা করতে এসেছেন, শ্রীল প্রভুপাদ উত্তরে বলেন, “তােমাদের কাছে আমি কিছু চাইতে আসিনি। তােমাদের কুকুর-বিড়ালের জীবন থেকে বাঁচাতে এসেছি।


আধুনিক সভ্যতা ও ডগস্ রেস’ ? 
‘চার চাকায় ছােটা অ্যাডভান্সমেন্ট নয়’ –শ্রীল প্রভুপাদ

শ্রীল প্রভুপাদ 

“You have got this body. You are already suffering on account of your past activities. And you are creating again another body for suffering. So it is not good. They do not know. Four-wheel dogs. That is advancement of civilization. The dog is running on four legs, and he is running with four wheel ........ where you are going ? And this is their scientific advancement. Competition with dog. Otherwise what they have done? The out hill (Building) and four legged wheel. That's all. Four wheel legs. This is animal civilization. Without knowing the aim of life, living in big big skyscraper building. “I am king. 'And running like dogs with four wheel car, Mercedes. This is dog civilization. It is not human civilization. Human civilization begins when they take Krishna's instructions.......

Conversation, March 31, 1977. Mumbai.




”অস্ট্রেলিয়ানরা কি কুকুর বিড়াল? বিস্ময়-বিমূঢ় অফিসিয়ালদের প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করে বােঝান, কুকুর যা করে, তারা সেই একই প্রিন্সিপ্ল অনুসরণ করছে— কেবল উন্নত উপায়ে। শ্রীল প্রভুপাদ জীবনের উচ্চতর উদ্দেশ্যবােধ রহিত মানুষকে ‘পােলিশ ডগ’, চর্চকে কুকুর বলতে দ্বিধা করেননি, আর এমন মানব সভ্যতা আসলে সভ্যতাই নয়, তার মতে, 'Sophisticated animalism 'মার্জিত পাশবিকতা। 

মরিশাস, ২রা অক্টোবর, ১৯৭৫, কথােপকথন, শ্রীল প্রভুপাদ : " The human beings are understood to be the most intelligent of all living creatures, but they are misusing their intelligence. How? They are misusing their intelligance by devoting it to the animal propensities. These animal propensities are eating, sleeping, mating and fearing. You can analyze the trend of modern civilization: everyone is busy with these four principles of animal life. They are sleeping and creating some cushions for comfortable sleep. They are creating palatable dishes for the eating propensity. They are exciting senses nicely, for the mating necessity. And they are defending their country with so many atom bombsthat is fear propensity...... But these symptoms you will find among animals!"

আহারনিদ্রাভয়মৈথুনং চ সামান্যমেদ পশুভির্নরণা।
ধর্মোঃ হি তেমধিকো বিশেষাে ধর্মেনঃ হীনাঃ পশুভিঃ সমানাঃ৷৷ 

“আহার, নিদ্রা, ভয় ও মৈথুন— এই চারটি কর্ম মানুষ ও পশুর মধ্যে সমান ভাবে 
বর্তমান। কিন্তু মানুষের অধিকতর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, তারা পারমার্থিকৃ অনুশীলনে নিযুক্ত হতে সক্ষম। অতএব পারমার্থিক জীবন তথা ধর্ম ছাড়া মানুষ পশুরই সমান।”

—মহাভারত, হিতােপদেশ

“In the modern civilization there are big, big institutions for understanding technology, how a motor car or an aeroplane moves. They are studying how to manufacture so much machinery. But there is no educational institution for investigating how the spirit soul is moving. The actual mover is not being studied. Instead, they arė studying the external movement of matter."


Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline