Page

Follow

সকল জড় উপাধিমুক্ত নির্মল আত্মার বৃত্তি হচ্ছে প্রেমময় ভগবৎসেবা।সকল ধর্মের সারকথা। Page-136

 সকল জড় উপাধিমুক্ত নির্মল আত্মার বৃত্তি হচ্ছে  প্রেমময় ভগবৎসেবা।



শ্রীল রূপ গােস্বামী ভক্তির সংজ্ঞা দিয়ে বলেন, কেউ যখন সকল অস্থায়ী জড়দেহগত উপাধি (material designations) থেকে মুক্ত হয়, তখন সে নির্মল, বিশুদ্ধ হয়, তখন সে তার ইন্দ্রিয়গুলি (হৃষীক) দিয়ে ইন্দ্রিয়গুলির প্রভু হৃষীকেশের, অর্থাৎ পরমেশ্বর ভগবানের সেবায় ব্রতী হয়— সেটিই ভক্তি, জীবের স্বরূপবৃত্তি। ::


সর্বোপাধি বিনিমুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলম্।।

হৃষীকেন হৃষীকেশ সেবন ভক্তিরুচ্যতে।।


 শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভারতবর্ষের বিভিন্ন জাতি - ভাষার মানুষকে শুদ্ধ ভক্তে পরিণত করেন, বাঘ- হাতিদের পর্যন্ত শুদ্ধ চেতনা জাগরিত করেন, ভক্তে পরিণত করেন। জড় বিজ্ঞানের দ্বারা কাউকে জড় কলুষ ও জড় উপাধি থেকে মুক্ত করার উপায় নেই। রাষ্ট্রসংঘে যখন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন তখন তারা প্রত্যেকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও ভাবতে থাকেন – “আমি চীনা’, ‘আমি জার্মান’, ‘আমি ফরাসী’, ‘আমি আমেরিকান', অথবা ‘আমি খ্রীষ্টান’, ‘আমি পারসিক’। 


স্পিরিটন বা আত্মা ফরাসী পারসিক কিছুই নয়, ঠিক যেমন ইলেকট্টন কণা ফরাসী বা জার্মান হয় না। জড় জগতের স্থান-কাল-দেহগত পরিচয়ে নিজেকে পরিচিতা গভীর মােহ। 


জড় বিজ্ঞানের দ্বারা এই মােহ বিদূরিত করার উপায় নেই – বরং ঘনীভূত হয়। সেজন্য প্রতিটি দেশে শিক্ষিত বিজ্ঞানীরা, পদার্থবিদ, গণিতবিদ, রসায়নবিদ বিজ্ঞানীরা অপর দেশবাসীদের হত্যা করার জন্য ভয়ংকর নিউক্লিয়ারবোমা ,স্মার্ট বােমা তৈরীতে নিরত। সব দেশে বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ থাকে সামরিক খাতে।।


ভগবদ্গীতায় সেজন্য শ্রীকৃষ্ণ ধর্মের পরম উদ্দেশ্য – শুদ্ধ কৃষ্ণচেতনা লাভ – ব্যক্ত করে পৃথিবীর সকল মানুষকে আহ্বান জানান প্রাতিষ্ঠানিক বা নৈমিত্তিক সকল ধর্ম, সংস্কার। পরিত্যাগ করে কেবল তার শরণাগত হতে ঃ সকল সংস্কার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ স্বরূপগত ধর্ম—কৃষ্ণচেতনায় স্থিত হওয়ার এটিই প্রত্যক্ষ পন্থা।।



ধর্ম’ শূন্য হওয়া অবাস্তব কল্পনা ও

নাস্তিক হওয়া অসম্ভব।


 আগুন জলে পরিণত হয় না, পরিবর্তিত হয় না আগুনের মূলগত ধর্ম। তেমনি আত্মার মূলগত ধর্ম থেকে বিছিন্ন করা যায় না আত্মাকে। আত্মার স্বভাবঃ ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ভালবাসা। 


চেতনা জড়-সংস্পর্শে নেশা-মাংসাহার-জড়বাদী মতবাদে বিকৃত হলে মনে হয় জড় ও জড়শক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার বাইরে অন্য কিছুরই অস্তিত্ব নেই; সৃষ্টি হয় ভক্ত ও ভগবৎ বিদ্বেষ। এই ভাবে জড়রােগাক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে সংশয়গ্রস্ত, নাস্তিক মনে করতে থাকে; অপরকে বােঝাবার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রকৃত সত্যিটা হচ্ছে, সে স্বরূপতঃ আত্মা, আর আত্মার স্বভাবগত ধর্ম— ভগবৎ সেবা। ভগবৎ-প্রীতি থেকে সে কখনই বিমুক্ত হতে পারে না 

—এটি তার সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্য ভাবে সম্পৃক্ত।


 সময়ান্তরে, বা কল্পান্তরে, বহু বহু জন্মের শেষে প্রকৃত জ্ঞান হলে সে বুঝতে পারে বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণই সর্বকারণের কারণ। (বাসুদেব সর্ব ইতি —ভ.গী ৭-১৯)। তিনি শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হন ও মহাত্মায় পরিণত হন ঃ স মহাত্মা সুদুলর্ভঃ। তার আগে, ভগবৎ-বিস্মৃত অবস্থায় নাস্তিক হবার অভিনয়, কেননা আত্মার অবিচ্ছেদ্য সহজাত শাশ্বত্ব ধর্ম কখনাে মুছে ফেলা যায় না, চিরন্তন কাল সেটি আত্মাতেই বিদ্যমান থাকে।।



সনাতন ধর্ম ও পৃথিবীর অন্যান্য ধর্ম।

 সত্য যদি এক হয়, পৃথিবীতে এত ধর্মমত, ধর্মশাস্ত্র কেন ?


ধর্ম ও ধর্ম সম্প্রদায় বা রিলিজিয়ন এক নয়।

 আমরা আগেই আলােচনা করেছি, ধর্ম হচ্ছে আত্মার চিরন্তন শাশ্বত স্বভাব বা অধ্যাত্ম (নিত্য ধর্ম) এবং সেই নিত্য স্বভাবের উন্মেষক নিয়ম বিধি নৈমিত্তিক ধর্ম। নিত্য ধর্ম অপরিবর্তনীয়, শাশ্বত, নৈমিত্তিক ধর্ম দেশ, কাল, মানুষের গ্রহণ ক্ষমতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।


 নৈমিত্তিক ধর্মের উদ্দেশ্য হচ্ছে জড়ভােগ প্রবৃত্তি ইন্দ্রিয়তৃপ্তি-লালসা সংযত করে আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটানাে ও আত্মার নিত্যবৃত্তি – ভগবদ্ভক্তি জাগ্রত করা। এজন্য পাত্র বা গ্রহীতা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাচার রয়েছে। যে নিয়ম ভারতীয় জৈনরা পালন করতে পারে, আফ্রিকার ক্যানিব্যালস বা নরখাদকরা তা পারেনা। এজন্য, নৈতিকও পারমার্থিক চেতনার মান অনুসারে ধর্মপ্রবক্তারা বিভিন্ন স্থানে, কালে গ্রহীতাদের গ্রহণােপযােগী করে ধর্ম শিক্ষা দেন। সৃষ্টি হয় নানা ধর্মমতের। কিন্তু মূলত একই শিক্ষা। শাস্ত্রানুসারে, সত্য, দ্বাপর সব যুগে সারা পৃথিবীতে কেবল সনাতন ধর্ম ছিল। পন্ডিতেরা অনুসন্ধান করলে এর অনেক প্রমাণ পাবেন। 


যেমন ইংরাজী অনার্স কোর্সের লিংগুইস্টিক্স,-এ পড়ানাে হয় যে পৃথিবীর ইউরােপ আমেরিকা মহাদেশের সমস্ত প্রধান ভাষার আদি জননী বা মাদার ল্যাংগুয়েজ হচ্ছে ইন্ডাে-টিউটোনিক ভাষা—সংস্কৃত। অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে সংস্কৃত-কেন্দ্রিক সভ্যতা, সনাতন  ধর্ম-প্রচলিত ছিল। 


শ্রীরামচন্দ্র, মহারাজ অম্বরীশ, যুধিষ্ঠির, পরীক্ষিৎ মহারাজ সসাগরা পৃথিবী শাসন করেছেন, ভারতের প্রাচীন ইতিহাস বা পুরাণ’, রামায়ণ, শ্রীমদ্ভাগবত, মহাভারতে তার অজস্র উল্লেখ রয়েছে। কলিযুগে বিভিন্ন ধরনের গ্রহীতাদের জন্য বিভিন্ন ধর্মপন্থা প্রদত্ত হয়েছে – উদ্দেশ্য একই —শুদ্ধ পারমার্থিক চেতনার বিকাশ। এজন্য স্থান কাল অনুসারে ভগবানের শক্ত্যাবেশ অবতারেরা বিভিন্ন ধরনের বাণী দেন, প্রদত্ত হয় বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ, সৃষ্টি হয়।


 ভিন্ন ভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়—খ্রীস্টান, ইসলাম বৌদ্ধ, ইহুদি ইত্যাদি। কিন্তু সব ধর্মের সারকথা, অন্তর্নিহিত সারসত্য একই।।



সকল ধর্মের সারকথা। 


১. পরমেশ্বর ভগবান সবকিছুর পরম উৎস, পরমনিয়ন্তা। 

২. ভগবান এক ও অদ্বিতীয়, সকল জীবের নিত্য-পরমপিতা। 

৩. ভগবৎ-প্রণীত আইন (ধর্ম) মেনে চলা কর্তব্য। 

৪. সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য ভগবানকে ভালবাসা, ভগবৎপ্রেম।

 ৫. সকল কর্মের উদ্দেশ্য ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান।।

 ৬. পাপকর্ম বন্ধ, ত্যাগ ও বৈরাগ্যের অনুশীলন, জড়েন্দ্রিয় সম্ভোগে

অনাসক্তি।।

 ৭. আত্মা, অজর, অমর, অবিনশ্বর।

 ৮. তত্ত্বদর্শী সদগুরু গ্রহণ। 

৯, জীবনের উদ্দেশ্য ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া। 

১০. ভগবানের দিব্য নামের অনবদ্য মহিমা।


স্থানকাল-পাত্র অনুসারে আচার-বিধির পার্থক্য,
উদ্দেশ্য এক

 ইসলাম ধর্মের প্রবক্তা হজরত মহম্মদ আরবীয় মরু অঞ্চলের কঠোর দুর্ধর্ষ উপজাতি প্রধান মানুষদের কাছে ধর্মপ্রচার করেন, তিনি তাদের বলেন কুকুর, শূকর ছাড়া সব পশুকে কোরবানি দিয়ে খেতে ,মাতা-ভগ্নীর সংগে যৌন সম্পর্ক না করতে, চারজনের বেশি নারীকে বিবাহ না করতে।

খ্রীস্টান ধর্মের প্রবক্তা যীশুখ্রীস্ট বাইবেলে টেন কমান্ডমেন্ট বা দশটি আদেশের দ্বিতীয় আদেশে বলেন, 'Thou shalt not kill” —হত্যা করিও না। তিনি মাংসাহার সীমায়িত করেন, সম্ভব হলে বর্জনের পরামর্শ দেন। 

সন্ত পল বাইবেলে বলেন, যৌনাবেগে দগ্ধ হওয়ার চেয়ে বিবাহ করা ভাল। কোন ধর্মেই বিবাহ-বহির্ভূত অবৈধ যৌনতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি ও সদাচার পালনের কথা বলা হয়েছে। মসজিদ, চার্চে সকলে সমবেত সেই একই পরমপুরুষ ভগবানেরই মহিমা গুণগান করে।

তবুও, মহম্মদ ও যীশুর গ্রহীতারা কেমন ছিল তা তাদের জীবনী পড়লেই জানা যায়। তারা যেটুকু শিক্ষা দিয়েছিলেন, তাতেই প্রাণ সংশয় হয়। মহম্মদকে মক্কা ছেড়ে পালাতে হয়;পরে তরবারি ধারণ করে তাকে যুদ্ধ করতে হয়। 

হত্যা করিও না এমন সুললিত বাণী মাত্র তিন বছর প্রচার করার পর যীশু খ্রীস্টকেই নৃশংসভাবে ক্রুশে পেরেক পুঁতে হত্যা করা  হয়, তার নিজের শিষ্য মাত্র ৩০টি রৌপমুদ্রার বিনিময়ে তাকে ধরিয়ে দেয়—এতে বােঝা যায় কেমন স্তরের মানুষদের মধ্যে তাদের প্রচার করতে হয়েছিল।


Click Here >>>Subscribe






Comments

y3

yX Media - Monetize your website traffic with us Monetize your website traffic with yX Media Monetize your website traffic with yX Media

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

sharethis-inline