Follow

ম্যানহাটন প্রােজেক্ট বনাম ‘ব্যাক টু গড হেড’ প্রােজেক্ট PAGE-239

  ম্যানহাটন প্রােজেক্ট বনাম

‘ব্যাক টু গড হেড’ প্রােজেক্ট

PAGE-239





 ১৯৩৯ সাল শুরু হয়েছে বিশ্বযুদ্ধ— সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড-ওয়ার। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত, প্রথম সারির দেশগুলিতে যুদ্ধের ব্যাপক প্রস্তুতি। এই যুদ্ধ মধ্যযুগ বা প্রাচীন যুগের মতাে নয় —কেবল সামরিক বাহিনীর মধ্যে লড়াই নয়;এই যুদ্ধের চরিত্র ভিন্ন ঃ শত্রু দেশের নারী-শিশু-কিশাের বৃদ্ধ সহ মানুষের শহর, গগনচুম্বী ইমারত, কলকারখানা—সব কিছুকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার ব্যাপক কার্যক্রম, পরিকল্পনা।


 বিশ্বনেতারা মহাব্যস্ত। বিশ্বের যুবশক্তি ভয়ংকর অস্ত্র ব্যবহারে নিপুণ হয়ে মারণযজ্ঞে ঝাপিয়ে পড়ার প্রশিক্ষণ নিতে তৎপর।নতুন অস্ত্র-প্রযুক্তি হাতে পেয়ে ছােট দেশও উদ্ধত আক্রমণকারীর ভূমিকায় জার্মানী আক্রমণ করছে ভারতের আয়তনের সাতগুণ বড় সােভিয়েত রাশিয়াকে, জাপান আক্রমণ করছে তার আয়তনের শত গুণ বড় আমেরিকাকে।


আধুনিক বিজ্ঞান, মননে উন্নত বিংশ শতাব্দীর উন্নত মানুষ মেতে উঠেছে যুদ্ধের খেলায়। মৃত্যুর উৎসবে।।

বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন নতুন বিধ্বংসী বােমা, পরমাণু বােমার হদিশ জানিয়ে চিঠি লিখছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে ঃ “......it is conceivable, .......that extremely powerful bombs of a new type may thus be constructed."


রাষ্ট্রনেতার কাছে বিধ্বংসী অস্ত্র বানানাের টেকনােলজি জানিয়ে বিজ্ঞানীর চিঠির স্বাভাবিক পরিণতি যা হওয়ার কথা, বিলম্ব হয়নি সেটা ঘটতে। বিলম্ব করেননি রুজভেল্ট। শুরু হয়েছিল ম্যানহ্যাটন প্রােজেক্ট, প্রথম পরমাণু বােমা তৈরীর প্রকল্প।


আধুনিক প্রযুক্তি ও আধুনিক রাষ্ট্রনীতির সমন্বয়ে যখন এইভাবে ধ্বংস আর মৃত্যুর প্রকল্প চলছে, বিশ্বের আরেকটি দেশের এক শহরে, ভারতের কোলকাতায় প্রায় সকলের অজ্ঞাতসারে তৈরী হচ্ছিল আরেকটি প্রােজেক্টঃ ‘ব্যাক টু গডহেড। নিউজ প্রিন্টে ছাপা একটি অচিরাচরিত চুয়াল্লিশ পাতার বিশেষ ম্যাগাজিন। এটি আরেকটি নিউক্লিয়র বােমা। তবে আইনস্টাইন, এফ. ফার্মি, সিজলার্ড, ওপেনহাইমারের পরিকল্পিত নিউক্লিয়র বােমার থেকে এই বােমা বহু বহু গুণে শক্তিশালী।


 বিজ্ঞানীদের পরমাণু বােমায় লেখা হচ্ছিল পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ নারী-শিশু-সাধারণ মানুষের মৃত্যু পরওয়ানা, হাজার হাজার ইমারত-অট্টালিকা চৌচির করে ধুলায় মিশিয়ে দেওয়ার অব্যর্থসংকেত। ব্যাক টু গডহেড’প্রােজেক্টের নলেজ’ বােমায় রচিত হচ্ছিল বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে দুঃখালয়ম অশাশ্বতম জগতের থেকে দূরে, সনাতন প্রকৃতি প্রকাশিত শাশ্বত চিজ্জগতে, প্রত্যেকের আপন আলয়ে জরা-মরণহীন আনন্দবিভাসিত জীবন লাভের সংকেত-সুত্রবাহী আমন্ত্রণ লিপি। 


একটি বােমায় লেখা হচ্ছিল জড়বাদী স্বার্থের হিংস্রতা, আর কলরবমুখর শিশু, প্রাণচঞ্চল কিশাের-কিশােরী, জন্মদাত্রী নারীর মর্মন্তুদ আর্তনাদের স্বরলিপি, অন্য বােমায় প্রােথিত হচ্ছিল শােক-ভয়-মৃত্যু-মুক্ত স্নিগ্ধতা আর নির্মল ভালবাসায় পূর্ণ চিরনিত্য আনন্দোচ্ছ্বসিত উৎসবমুখর জীবনের সুরগীতি।।


দুটি বােমাই বিস্ফোরিত হয়েছে। 


দুটি বােমাই বিস্ফোরিত হয়েছে, আর বিশ্ববাসী সবিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করেছে উভয়ের প্রচন্ডতা।। হিরােশিমায় সােনালী মিষ্টি আলাে মাখা সকালের আকাশ থেকে নেমে এসেছে ‘লিটল  বয়’, নিউক্লিয়র বােমা, মুহূর্তে একটি গােটা শহরকে তৈরী করেছে এক সমাধি ক্ষেত্রে, নরকের রেপ্লিকা। ফুলের মতাে শিশুরা নিমেষেই প্রচন্ড তাপে তেজস্ক্রিয়তায় ছাই হয়ে গেছে, সেটা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছে বােমা নিক্ষেপকারী B-27 বিমানের পাইলট, ঘটনার অভিঘাতে যিনি পরবর্তীতে হারিয়ে ফেলেন তার মানসিক স্থিতি।


 জড়বাদ, স্বার্থ আর অপ্রেমের নগ্ন বীভৎস রূপ বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করে শিউরে উঠেছে। লিটল বয়’ এখন ‘অ্যাডাল্ট ম্যান’, সাবালক, লক্ষ লক্ষ গুণ বেশি ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন। বিশ্বের সমস্ত সুপার পাওয়ার দেশের বিজ্ঞানীরা মজুত  করে চলেছেন এমন মূর্তিমান ধ্বংস-ভরা লক্ষ লক্ষ কিলােটনের পরমাণু বােমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্র, যা বিশ্ব মানব সভ্যতায় অন্ধ জড়বাদের উপহার হয়ে ঝরে পড়বে। এখনই বিশ্বের ‘উন্নত’সভ্যতার অধিবাসীরা পরস্পরকে ভবিষ্যতে হত্যার আয়ােজনে প্রতি বছর ব্যয় করে এক হাজার বিলিয়ন ডলার।* বিশ্বের মােট বিজ্ঞানীদের ২৫ শতাংশই নিরত রয়েছে হত্যাধ্বংসের আয়ােজনে, পরিকল্পনায়।।


ভগবদ্গীতা সনাতন অধ্যাত্ম-বিজ্ঞানের শাশ্বত জ্ঞান, নলেজ-বােমা বিস্ফোরিত হয়েছে বিশ্বের এই জড়বাদী সভ্যতার সবচেয়ে চরম সময়ে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অগ্নিক্ষরণ আর বিভীষিকা রচনার দিনগুলিতে। কিন্তু প্রথম বােমার মত এর অভিঘাত ক্ষণস্থায়ী নয়। এই বিস্ফোরণ অব্যাহত। এর অভিঘাতে মানুষের দেহ বা ইমারত ধ্বংস হচ্ছে না, ধ্বংস হচ্ছে অজ্ঞানতা, জড়বাদী স্বার্থের বিষ। মানুষ ম্যাটেরিয়ালিজমের গরল আর অলীক মরীচিকা থেকে শাশ্বত বাস্তবতা, ভগবৎ-চেতনা আর ভগবৎ-প্রেমে সুরভিত হয়ে ফিরে পাচ্ছে তাদের যথার্থ স্বরূপ —মৃত্যুহীন শাশ্বত অস্তিত্ব।


 পৃথিবী জুড়ে অগণিত মানুষ উপলব্ধি করতে পারছেন যে জীবনের উদ্দেশ্য আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে পরিশীলিত ও সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কেবল কুকুর বিড়ালের মতাে লড়াই করা নয়, কিংবা আহার-নিদ্রা-ভয়-মৈথুন (Sleeping-eating-mating and sex) এই স্থল, পাশবিক প্রবৃত্তিগুলি অত্যন্ত জমকালাে রূপে বৃদ্ধি করে নশ্বর দেহ থেকে বিদায় নেওয়া নয়, জীবনের পরম উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমপুরুষ ভগবানের সংগে বিস্মৃত শাশ্বত প্রেমময় সম্পর্ক পুনর্জাগরিত করে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া। 


অবিশ্বাস করতে পারেন, কিন্তু বাস্তব সত্যিটা হল —লক্ষ লক্ষ মানুষ ভগবদ্ধামে ফিরে যাচ্ছেন শ্রীচৈতন্যদেব-প্রদত্ত অব্যর্থ সূত্র আশ্রয় করে।।


Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION