Adsterra 7

 

Follow

কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের বিজয়ধ্বজ পৃথিবী জুড়ে(PAGE-283)

  কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের বিজয়ধ্বজ পৃথিবী জুড়ে

(PAGE-283)



 হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেল্ফ , ইতিহাসের পুনারাবৃত্তি ঘটে। ভারতের প্রাচীন গৌরবময় ইতিহাস, পুরাণ এখন মাইথােলজি, কাল্পনিক বলে অনেকের ধারণা। কিন্তু সত্য- সূর্যকে মেঘাবৃত করলেই সত্যকে মুছে দেওয়া যায় না, সূর্যের ঔজ্জ্বল্য নিয়ে এক সময় দিগন্ত বিভাসিত করে প্রকাশিত হয়। সারা পৃথিবী এক সময় শাসন করতেন ভারতের অমিতশক্তিশালী মহারাজারা ; যেমন মহারাজ যুধিষ্ঠির, পরীক্ষিৎ।  


এখন যাকে মহাদেশ বলা হয়, পূর্বে তাকে দ্বীপ, বা বর্ষ বলা হত। সপ্তদ্বীপা সসাগরা পৃথিবী শাসন করেছেন ভারতের ক্ষত্রিয় মহারাজগণ, বৈদিক শাস্ত্রে তার তথ্য রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভারতের মহারাজদের অধীনতা স্বীকার করে শুল্ক পাঠাতেন। পরীক্ষিৎ মহারাজ চীন দেশে গিয়েছিলেন, সাতটি মহাদেশের এই পৃথিবীর অজানা বা অচেনা কিছু ছিল না। এমনকি কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম সংস্কৃত সাহিত্যেও তার প্রমাণ রয়েছে। এই গ্রন্থের ৭/৩৩ শ্লোকঃ রথেনানুতস্তিমিত গতিনা তীর্ণজ লধিঃ। পুরাসপ্তদ্বীপাং জয়তি বসুধামপ্রতিরথঃ “এই পুত্র অপ্রতিহতগতিতে সমুদ্রপার হয়ে শীঘ্রই সপ্তদীপা পৃথিবী জয় করবে।”



এমন শত শত দৃষ্টান্ত রয়েছে। সমুদ্র পার হওয়া আগে নিষিদ্ধ কিছু ছিল না। পৃথিবীর বহু প্রান্তে সুপ্রাচীন সনাতন বৈদিক সংস্কৃতির বিস্তৃতির নিদর্শন রয়েছে। কম্বােডিয়ার আঙ্কোরভাট—অর্থ: ওঙ্কারক্ষেত্র, বিষ্ণুমন্দির এখনাে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মন্দির। ইন্দোনেশিয়ার বিমান পরিসেবার নাম গরুড় এয়ারওয়েজ।



আরেকটি উজ্জ্বল যুগের মুখােমুখি আমরা। বৈদিক শাস্ত্রে ভবিষ্যদ্বাণী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে অবতরণের পর সারা পৃথিবীতে কৃষ্ণভাবনামৃত, সনাতন পরিব্যাপ্ত হবে, গ্রহণ করবে এবং কলিযুগের নিম্নগামিতা, অধঃপতন ও অবক্ষয়ের মধ্য থেকে সূচনা হবে উজ্জ্বল এক কৃষ্ণভাবনাময় যুগের। বিশ্বের মানুষ অমৃতের আস্বাদ পেয়ে আনন্দ-পুলকিত হবে। সুতরাং অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু বৈদিক শাস্ত্রের ভবিষ্যদ্বাণী অভ্রান্ত।


“প্রকৃতপক্ষে ভারতবর্ষের সমগ্র জনগণ পারমার্থিক জীবনের প্রতি আত্মনিবেদিত। ভারতবর্ষে যে জন্ম গ্রহণ করেছে, স্বভাবতঃই সে পারমার্থিক জীবনের এক উত্তরাধিকার জন্মসূত্রেই লাভ করেছে। দুর্ভাগ্যবশতঃ বর্তমানে ভারতবর্ষের নেতৃবৃন্দ এই ভ্রান্ত ধারণা পােষণ করছেন। যে, যেহেতু ভারতে অধ্যাত্ম-প্রবণতা অত্যন্ত বেশি, সেজন্য এই দেশের জড়জাগতিক উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। বরং, তুমি যদি পারমার্থিক দিক দিয়ে উন্নত হওঁ, তােমার জড় প্রয়ােজনগুলির খুব সুন্দর সুরাহা আপনা থেকেই হয়ে যাবে।”

—শ্রীল প্রভুপাদ, ভাষণ, ১৪.০৪.৭২ 


“ভারতবর্ষের মানুষ যাতে কৃষ্ণচেতনা বিস্মৃত হয় সেজন্য অবিরাম প্রচার চলছে, তবুও ভারতবর্ষের মানুষের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়, কেননা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং এখানে আবির্ভুত হয়েছিলেন।”

—ভাষণ, সেপ্টেম্বর, ১৯৭২।


 ভারতবর্ষ একসময় সারা পৃথিবী শাসন করত 


“এটি সুস্পষ্ট যে ভারতবর্ষের রাজন্যবর্গ এক সময় সমগ্র বিশ্ব শাসন করতেন, এবং তাদের সংস্কৃতি ছিল বৈদিক। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে, মহাত্মা বিদুর যখন তীর্থ পর্যটন করছিলেন, তখনও এই ভূখন্ড আজকেরই মতাে ভারতবর্ষ নামে পরিচিত ছিল। তিন হাজার বছর আগে কী ঘটেছিল পৃথিবীর ইতিহাস, সে সম্বন্ধে কোন সুসংবদ্ধ তথ্য প্রদান করতে পারে না, কিন্তু তারও পূর্বে সারা পৃথিবীর একচ্ছত্র সম্রাট ছিলেন মহারাজ যুধিষ্ঠির এবং তারই পতাকাতলে সারা পৃথিবী তার সামরিক শক্তির অধীনে ছিল। 


এখন রাষ্ট্রসংঘে শত শত পতাকা উড়তে দেখা যায়, কিন্তু বিদুরের সময় অজিত শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় কেবল একটি পতাকা ছিল। পৃথিবীর দেশগুলি আবার এক পতাকাতলে এক রাষ্ট্র স্থাপনে অত্যন্ত ব্যগ্র, কিন্তু তা যদি তারা সত্যি সত্যিই চায়, তাহলে তাদের অবশ্যই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপা প্রার্থনা করতে হবে। তিনিই কেবল সারা পৃথিবী জুড়ে একটি রাষ্ট্রগঠনে আমাদের সাহায্য করতে পারেন।”

—ভাঃ ৩/১/২০


 বহির্বিশ্বের অধিবাসীগণ কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করছেন। “আমাদের জন্য এটা গৌরবের বিষয় যে বহির্বিশ্বের অন্যান্য দেশের অধিবাসীগণ কৃষ্ণভাবনামৃতের এই সংস্কৃতি গ্রহণ করছেন।” । —ভাষণ ২৪.১০.৭২



ভারতবর্ষ পুণ্যভূমি। অত্যাশ্চর্য ভারতের বৈদিক সংস্কৃতি, নবসঞ্জীবনীতেপূর্ণ পারমার্থিক সভ্যতা, বৈদান্তিক জ্ঞান। শােপেনহাওয়ারের মতাে চিন্তাবিদ যাকে বলেছিলেন “My solace in life.'। পৃথিবীর বড় বড় সভ্যতা গেছে অস্তাচলে। গ্রীক, রােমান কোন সভ্যতা নেই। ভারতীয় সভ্যতা অটুট। ব্রিটিশরা ভারতের ধন-সম্পদ লুটপাট করতে ভারতে আসে। শােনা যায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী প্রথম ভারত অধিকারের পর যে তিন জাহাজ বােঝাই মূল্যবান ধনরত্ন-জুয়েলারী ব্রিটেনে পাঠায়, সেগুলিই জুগিয়েছিল শিল্প-বিপ্লবের রসদ। কিন্তু পরিণতি সুখকর হয় নি। 


দোর্দন্ডপ্রতাপ কুটচক্রী লর্ড ক্লাইভ স্বদেশে গিয়ে হতাশায় আত্মহত্যায় মর্মান্তিকভাবে নিজের বর্তমান জীবনের সমাপ্তি রেখা টানেন। শিল্প-বিপ্লবের ফলে পৃথিবী  কার্বন আর নাইট্রাস অক্সাইডে ভরে গেছে। দূষিত চিন্তাস্রোতে ভরেছে মানুষের মন। চকচকে কিছু ভােগ্য সামগ্রীর পিছনে মানুষ উন্মাদের মতাে ব্যাট-রেসে মত্ত, আর সেই কর্মের জন্যই যত জড়শিক্ষা। কেবল জীবিকা-সংক্রান্ত জ্ঞান, মূল্যবান জীবনের জ্ঞান অধরা। এই অগভীর জড় সংস্কৃতির বিশ্ব সভ্যতাকে দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা নেই।


ব্রিটেন যে সম্পদ লুঠ করেছে, সাম্রাজ্য তৈরী করেছে, কালের গতিতে তা ভেঙে গেছে। ব্রিটিশ সূর্য গেছে অস্তাচলে। তারা ভারত থেকে জড় সম্পদ নিয়ে গেছে, কিন্তু সন্ধান পাইনি  ভারতের আসল সম্পদের।

যে ভারতবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছে, তার উচিত প্রথমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রদত্ত জ্ঞানের সাহায্যে নিজের জীবন সার্থক করা, তারপর তা অপরাপর দেশবাসীকে, বিশ্ববাসীকে বিতরণ করা। ভারতবাসীকে এই নির্দেশ দিয়েছেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু।


জলদূত জাহাজে শ্রীল প্রভুপাদ পাশ্চাত্যে যান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এক উত্তরকালের প্রতিনিধির নির্দেশে (শ্রীমদ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী) । তিনি সঙ্গে ৪০ টাকা নিয়ে যান, যা আমেরিকার মতাে দেশে এক ঘন্টার ব্যয়নির্বাহের জন্যও পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু তিনি সঙ্গে সেই সম্পদ নিয়ে গিয়েছিলেন, যা কেউ লুঠ করতে পারেনি ও চিরন্তন পারমার্থিক জ্ঞান, কৃষ্ণভাবনামৃত।।


পাশ্চাত্যে কৃষ্ণভাবনামৃতের বিস্তার সূচনা করেছে নতুন রেনেশার, জড় সভ্যতায় পারমার্থিক সংস্কৃতির নবজাগরণের। বিশুদ্ধ ভগবদ্ভক্তি অনুশীলনের ধারা ও সেই সাথে বৈদিক সংস্কৃতি-কৃষ্টি বিস্তৃত হয়েছে সমগ্র বিশ্বে। এমন নয় যে এখনই সারা বিশ্ব গ্রহণ করেছে পারমার্থিক সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় স্তরে। কিন্তু প্রত্যেক দেশে জনসমাজের একটি অংশ গ্রহণ করেছে, এবং কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন ক্রমপ্রসারমান, ক্রমশঃ বেশি বেশি মানুষকে স্পর্শ করছে। কৃষ্ণভাবনামৃতের উজ্জ্বল দীপ্তি, ক্রমশঃ বেশি বেশি মানুষ আস্বাদন করছেন কৃষ্ণভাবনার দিব্য অমৃত।



সমগ্র বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে ভগবৎ-প্রেমের মাধুর্য আস্বাদন করিয়ে তাদের চিরকালের জন্য অজর’, অমর’ও সুখী, আনন্দোজ্জ্বল করার ব্রত গ্রহণ করেছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং, সেজন্য তার ভবিষ্যদ্বাণী অমােঘ। ঠিক যেমন পান্ডব পক্ষ বিজয় লাভ করবে, বিধ্বস্ত হবে আসুরিক শক্তি, শ্রীকৃষ্ণের এই ভবিষ্যদ্বাণী ছিল অমােঘ, অলঙঘ্য, অনিবার্য সত্য। সমগ্র পৃথিবীর প্রতিটি দেশে, শহরে গ্রামে মানুষ শ্রীকৃষ্ণের দিব্যনাম উচ্চারণ করবে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই ভবিষ্যদ্বাণী করেন (শ্রীচৈতন্য ভাগবত, মধ্য খন্ড, অধ্যায়-২, অন্তখন্ড অধ্যায়-৪)। 


তিনি আরও ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে এজন্য তিনি একজন সেনাপতি ভক্তকে বিদেশে পাঠাবেন যথাসময়ে (চৈতন্য-মঙ্গল, আদি খন্ড, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ) । শ্রীল প্রভুপাদের ১২ বছরের প্রচারে বিশ্বজয় তার এই উক্তির সত্যতা প্রতিপাদন করে। ব্রিটিশ, আমেরিকান, জার্মান, ফরাসী, জাপানীরা কৃষ্ণভক্তি গ্রহণ করবে, পঞ্চাশ বছর পূর্বেও এটি ছিল অভাবনীয়। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেন শ্রীল প্রভুপাদ, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রচারের  মাধ্যমে। তারা একজন কৃষ্ণভক্তের চরণে মস্তক ভুলুণ্ঠিত করে প্রকৃত জ্ঞান গ্রহণ রেছে, শুদ্ধ কৃষ্ণভক্তে পরিণত হয়েছে, কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনে নিজেদের মেধা, বুদ্ধি প্রতিভা , ধনৈশ্বর্য নিয়ােজিত করেছে। নিজেদের জড় দেহজ জাতি-গােষ্ঠীগত উপাধি পরিত্যাগ করে সে কেবল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত, এই শাশ্বত পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফলে প্রকৃত পারমার্থিক  স্তরে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বিশ্বের মানুষ। পৃথিবীর ধর্মপ্রচারের ইতিহাসে তুলনারহিত, মন্তব্য করেছেন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অমিতাভ চৌধুরী। ন ভূতাে ন ভবিষ্যতি ---সংস্কৃত বাগধারাটি এই ধরনের ঐ অভুতপর ঘটনাকে বর্ণনা করার জন্যই রচিত।


কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তিত এই সংকীর্তন আন্দোলন অস্থায়ী বা স্বল্পস্থায়ী নয়। শাস্ত্রানুসারে, এটি কলিযুগে বিশ্বের মানুষের যুগ-ধর্ম। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং সুবৰ্ণবর্ণ অবতার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে সমগ্র বিশ্বে শুদ্ধ ভগবৎ-প্রেমভিত্তিক সংকীর্তন আন্দোলন প্রবর্তন করবেন, এটি বৈদিক শাস্ত্রের হাজার হাজার বছর পূর্বের ভবিষ্যদ্বাণী।।  এখন হরে কৃষ্ণ’ দিব্যনাম সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে সুবিদিত শব্দ।


অপূর্ণ দর্শনের খ্রীস্টান ধর্ম বিজ্ঞানমনস্ক খ্রীস্টানদের সন্তুষ্ট করতে পারবে না, ভারতের ধর্মই উপযােগী হবে, ব্রিটিশ পিরিয়ডেই মন্তব্য করেছিলেন স্যার উইলিয়াম জোনস্ঃ “I am no Hindu but I hold the doctrine of the Hindus concerning a future state to be incomparably more rational, more pious and more likely to deter men from vice than horrid opinions inculcated by the Christians as punishment without end."


বিদেশের তরুণতরুণীদের ক্রমাগত কৃষ্ণভক্তির দর্শন, সনাতন ধর্ম গ্রহণ তাঁর উক্তির সত্যতা প্রতিপন্ন করছে। বিদেশের ইউনিভার্সিটিগুলিতে নিয়মিত ভক্তরা গিয়ে কৃষ্ণভাবনামৃত দর্শনের উপর ক্লাস দিচ্ছেন। এই গ্রহণ অগভীর বা প্রদর্শনমূলক নয়  (Showy, superficial?)। অজস্র দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন বিশ্বখ্যাত বিটল্‌স-সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন লন্ডনের উপকন্ঠে ভক্তিবেদান্ত ম্যানর এস্টেটটি দান করেন কৃষ্ণমন্দির স্থাপনের জন্য; বেশ কয়েক একরের এই জমির মূল্য কোটি পাউন্ডের হিসাবে। 


কয়েক বছর আগে মৃত্যুকালে জর্জ সারিসন তার অন্তিম ইচ্ছা জানান ও তার দেহটি যেন চিতায় দগ্ধ করা হয়, অস্থি ভস্ম ভারতের পুন্যসলিলা  গঙ্গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। প্লেনে করে কয়েকশাে কিলােমিটার ব্যাপী গঙ্গায় তার অস্থিভস্ম ছড়িয়ে তার শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করে তার শুভানুধ্যায়ীরা। চান্ট অ্যান্ড বি হ্যাপি গ্রন্থে (BRT) হারিসন তাঁর হরিনাম মহামন্ত্র-প্রীতির কারণ জানিয়েছেন। এইভাবে, তিনি এক নতুন ব্রিটিশের  প্রতিমর্তি স্থাপন করলেন ঃ কুটকৌশলী ক্লাইভ ইমেজ থেকে শ্রদ্ধাবনত,হরিনাম কীর্তনরত হ্যারিসন। এই রূপান্তর, ট্রান্সফরমেশান এক পরিদৃশ্যমান মিরাকল। সারা প্রশ্ন যা ঘটে চলেছে। এইভাবে বঙ্গসংস্কৃতির সুবিপুল ভুবনায়ন, বঙ্গগৌরব শ্রীচৈতন্যদেব-প্রবর্তিত কষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের বিজয়ধ্বজ বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে উড্ডীন ও সনাতন ধর্মের বিশ্বায়ন হলেও বাংলার মিডিয়া এ বিষয়ে অনেকাংশে মূক ও বধির। আঞ্চলিক তুচ্ছতার পরিধি ছাড়িয়ে কবে তাদের বীক্ষণ বৃহত্তর ব্যাপ্তি পাবে সেকথা বলবে ভবিতব্য।



Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

adstera-6

         

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION