Adsterra 7

 

Follow

অপ্রাকৃত চিন্ময় শব্দতরঙ্গ মহামন্ত্র জপ-কীর্তন ও বৈজ্ঞানিকতা।PAGE-276

  অপ্রাকৃত চিন্ময় শব্দতরঙ্গ

মহামন্ত্র জপ-কীর্তন ও বৈজ্ঞানিকতা।

PAGE-276



 ‘মর্ডান টেকনােলিজক্যাল অ্যাডভান্সমেন্টের এই যুগে মন্ত্র জপ ! অনেকে এমন ভাবতে পারেন। কিন্তু সারা পৃথিবীর সর্বত্র, দিনের ২৪ ঘন্টাই এই শব্দ অনুরণিত করছেন বিশ্বের সকল দেশ-জাতির অগণিত মানুষ কেননা সেটিই ছিল বিশ্বম্ভর, শ্রীচৈতন্যদেবের প্রচারব্রত বিশ্বের সমস্ত দেশ-গ্রামকে তিনি ভগবানের দিব্যনামের শব্দতরঙ্গে ভরে দেবেন।


একটি মেয়ে যখন বালিকা থাকে, তখন তার মধ্যে যে অপত্য-স্নেহ, সন্তান-বাৎসল্য রয়েছে, বােঝা যায় না;উত্তর জীবনে সন্তান লাভ হলে তার অন্তর্গহনের সুপ্ত স্নেহ, বাৎসল্য বৃত্তির বাহ্যিক প্রকাশ ঘটে। প্রত্যেক আত্মার মধ্যে নিহিত রয়েছে দিব্য মাধুর্যময় ভগবৎপ্রেম। নাস্তিক, বিজ্ঞানী, মানবেতর জীব-পশু-উদ্ভিদ সকলের অন্তরেই সুপ্ত রয়েছে কৃষ্ণপ্রেম। বিশ্ববাসীকে শ্রীচৈতন্য দেবের অনুপম উপহার : অপ্রাকৃত চিন্ময় শব্দতরঙ্গ – মহামন্ত্র ?

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।।

হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।


 শ্রীল প্রভুপাদ পাশ্চাত্যের একটি স্টুডিওতে মহামন্ত্র কীর্তনের প্রথম রেকর্ডটি করার পর একটি ছােট্ট ব্যাখ্যা ঐ রেকর্ডে সংযােজিত করেন; সেখানে তিনি বলেন :

“এই অপ্রাকৃত মহামন্ত্র কীর্তনের ফলে আমাদের অপ্রাকৃত চেতনার পুনর্জাগরণ হয়। চিন্ময় আত্মারূপে আমরা সকলেই কৃষ্ণভাবনাময়, কিন্তু অনাদি কাল ধরে জড় জগতের সংগে সংস্পর্শের ফলে, আমাদের চেতনা জড় কলুষের দ্বারা কলুষিত হয়ে পড়েছে। যে জড় পরিবেশে আমরা এখন বাস করছি, তাকে বলা হয় মায়া। মায়া মানে হচ্ছে যা নয়। আর এই মায়া কি?


 এই মায়া হচ্ছে, জড়া প্রকৃতির উপর আমাদের প্রভুত্ব করার অপচেষ্টা। প্রকৃতপক্ষে আমরা জড়া প্রকৃতির কঠোর নিয়মে আবদ্ধ কোন ভৃত্য যখন কৃত্রিমভাবে তার সর্বশক্তিমান প্রভুকে অনুকরণ করার চেষ্টা করে, তখন বলা হয় যে, সে মায়াচ্ছন্ন। আমরা এখন জড়া প্রকৃতির সম্পদগুলি ভােগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমরা জড়া প্রকৃতির জটিলতায় দৃঢ় থেকে দৃঢ়তরভাবে আবদ্ধ হয়ে পড়ছি। তাই যদিও জড়া প্রকৃতিকে বশ করার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি, প্রকৃতপক্ষে আমরা কিন্তু তার উপর আরও বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। আমাদের কৃষ্ণভাবনার পুনর্জাগরণের ফলে জড়া প্রকৃতির সঙ্গে এই অলীক সংগ্রামের অচিরেই নিরসন হতে পারে।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে 

 হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে “


এই মহামন্ত্র হচ্ছে আমাদের শুদ্ধ চেতনাকে জাগরিত করার অপ্রাকৃত শব্দতরঙ্গ উচ্চারণ করার ফলে আমাদের হৃদয়ের সমস্ত কলুষ বিদূরিত হয়। হৃদয়ের সমস্ত কলুষের মূল কারণ হচ্ছে সব কিছুর ওপর আধিপত্য করার ভ্রান্ত বাসনা।

কৃষ্ণভাবনামৃত মনের উপর কোন কৃত্রিম প্রক্রিয়ার আরােপ নয়। এই চেতনাজীবের মৌলিক এবং স্বাভাবিক বৃত্তি। আমরা যখন এই অপ্রাকৃত শব্দতরঙ্গ উচ্চারণ করি, তখন আমাদের এই চেতনা জাগরিত হয়।


 ধ্যানের সব চাইতে সরল এই পন্থাটি এই যুগের জন্য অনুমােদিত হয়েছে। আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাতেও আমরা দেখতে পাই যে এই মহামন্ত্র কীর্তন করার ফলে তৎক্ষণাৎ চিন্ময় আনন্দ অনুভব করা যায়। জড় জাগতিক জীবনে আমরা সকলেই নিম্ন স্তরের পশুর মতাে ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির প্রচেষ্টায় ব্যস্ত। এই ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির স্তর থেকে আর একটু উন্নত স্তরে মানুষ জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য মনােধর্মসূত জ্ঞানের চর্চা করে।


 তা থেকেও একটু উন্নত স্তরে মানুষ যখন যথেষ্ট বুদ্ধি অর্জন করে, তখন অন্তরে এবং বাইরে সর্ব কারণের পরম কারণ সম্বন্ধে জানতে চেষ্টা করে। আর কেউ যখন মন, বুদ্ধি এবং অহঙ্কারের স্তর অতিক্রম করে যথাযথভাবে পারমার্থিক জ্ঞান লাভ করেন, তখন তিনি অপ্রাকৃত স্তরে অধিষ্ঠিত হন। এই হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন সম্পাদিত হয় আধ্যাত্মিক স্তরে এবং তাই এই শব্দতরঙ্গ সব রকম নিম্নস্তরের চেতনা, যথা ইন্দ্রিয়জাত, মনােজাত বা বুদ্ধিজাত চেনার স্তর অতিক্রম করে শুদ্ধ চিন্ময় স্তরে স্পন্দিত হয়। 


তাই, এই মন্ত্রের  ভাষা জানবার কোন প্রয়ােজন হয় না অথবা এই মহামন্ত্র কীর্তনের জন্য কোন রকম মনােধর্মপ্রসূত জল্পনা-কল্পনা অথবা বিচার-বুদ্ধির সমন্বয় সাধনের প্রয়ােজন হয় না। এটি স্বাভাবিকভাবে চিন্ময় স্তরে সম্পাদিত হয়। তাই যােগ্যতা নির্বিশেষে যে কেউ এই কীর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারে। আর উন্নত স্তরে, পারমার্থিক উপলব্ধির ভিত্তিতে সমস্ত অপরাধ মুক্ত হয়ে, এই মহানাম মন্ত্র কীর্তন করতে হয়।

এই মহামন্ত্র কীর্তনের শুরুতেই আটটি দিব্য আনন্দের উপলব্ধি নাও হতে পারে। 


সেই আটটি দিব্য আনন্দ হচ্ছে (১) স্তম্ভ, (২) স্বেদ, (৩) পুলক, (৪) স্বরভেদ, (৫) কম্প, (৬) বৈবর্ণ, (৭) আনন্দ জনিত ক্রন্দন এবং (৮) সমাধি। প্রাথমিক স্তরে এই অষ্ট-সাত্ত্বিক বিকারগুলি অনুভব নাও হতে পারে, কিন্তু এই মন্ত্র কীর্তন করার ফলে যে তৎক্ষণাৎ চিন্ময় স্তরে উন্নীত হওয়া যায়, সেই সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নেই এবং তার প্রথম লক্ষণ হচ্ছে এই মহামন্ত্র কীর্তন করার সঙ্গে সঙ্গে নৃত্য করার প্রবণতা। আমরা ব্যবহারিকভাবে তা দেখেছি। এই কীর্তনে একটি শিশুও যােগদান করতে পারে। 


তবে যারা জড়, জড়জাগতিক জীবনে অত্যন্ত গভীরভাবে আবদ্ধ, তাদের পক্ষে এই উপলব্ধির স্তরে উপনীত হতে কিছু সময় লাগে। কিন্তু এই ধরনের বিষয়ী মানুষেরাও এই মন্ত্র উচ্চারণের ফলে, অচিরেই পারমার্থিক স্তরে উন্নীত হতে পারে। ভগবানের শুদ্ধ ভক্ত যখন ভগবৎ-প্রেমে মগ্ন হয়ে এই মন্ত্র উচ্চারণ করেন, তখন তা শ্রবণে সব চাইতে বেশি ফলদায়ক হয়। এই মহামন্ত্রের কীর্তন সব সময় ভগবানের শুদ্ধ ভক্তের শ্রীমুখ থেকেই শ্রবণ করা উচিত, যাতে তৎক্ষণাৎ তার সুফল লাভ করা যায়। যতদূর সম্ভব অভক্তের মুখ থেকে এই নাম শ্রবণ না করার চেষ্টা করতে হবে। সর্পোচ্ছিষ্ট দুধ যেমন বিষে পরিণত হয়, তেমনই অভক্তের মুখে এই নাম শ্রবণও তদ্রুপ খারাপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।



Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

adstera-6

         

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION