Follow

জড়বাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের প্রস্তুতি.PAGE-240

  জড়বাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের প্রস্তুতি




 এক অনন্য সাধারণ ‘সেনাপতি। "I think we are becoming like a gigantic guerilla warfare movement fighting with Maya ----Srila Prabhupada


১৯৪২-এর কোলকাতা। পৃথিবীতে ২০ বছরের মধ্যে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ভারতের ব্রিটিশ গভর্মেন্ট ভারতের নেতৃবৃন্দের মতামত গ্রহণ না করেই যুদ্ধ ঘােষণা করেছে। ভারতের যুবকদেরকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করতে বিশেষ ব্রিটিশ পলিসি’ প্রয়ােগ করেছে ; প্রচুর খাদ্যশস্য সিজ করা হয়েছে ; শুরু হয়েছে মানুষের সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ।


 কোলকাতায় ঘন্টায় ঘন্টায় চড়ছে চালের দাম। অভুক্ত নিরন্ন মানুষের মিছিল, মৃত্যু। কোলকাতার আকাশে বােমারু বিমানের শব্দ, প্রায়ই ব্লাক-আউট’ হচ্ছে, ভীত-সন্ত্রস্ত কোলকাতার মানুষ পালাচ্ছে কোলকাতা ছেড়ে। 


শরীর-কেন্দ্রিক জড় সভ্যতার বীভৎস রূপ প্রত্যক্ষ করছেন স্কটিশ চার্চ কলেজের স্নাতক এক গৃহস্থ কৃষ্ণভক্ত, অভয়চরণ দে, পরবর্তীতে সন্ন্যাসগ্রহণ করে যিনি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী বা সংক্ষেপে ‘শ্রীল প্রভুপাদ’ নামে পরিচিত হবেন। স্কটিশ চার্চ কলেজে তাঁর এক ক্লাস উঁচুতে পড়তেন সুভাষচন্দ্র। তিনি ঐ কলেজে ছাত্রদের নিয়ে তৈরী করেছিলেন ফিলসফি ক্লাব। ১৯৪২-এ স্বগৃহে অন্তরীণ নেতাজী সংগােপনে ভারত থেকে পাড়ি দিলেন ইউরােপে। ৪৪-এর কোলকাতা, আর ও বিপন্ন, যুদ্ধ দীর্ণ। সেই সময় কোলকাতায় সূচনা হল আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের।। ব্লাইন্ড ম্যাটেরিয়ালিজমের বিরুদ্ধে, ভয়ংকর অজ্ঞানতা আর দেহকেন্দ্রিক চেতনার বিরুদ্ধে এক অঞত-পূর্ব যুদ্ধ, যা ভবিষ্যতে বদলে দেবে বিশ্বসভ্যতার চরিত্র। 


১৯৪৪-এ ম্যানহাটনে চলছিল নিউক্লিয়র বােমা তৈরী --তাদের ছিল অকুণ্ঠ সরকারি সাহায্য। জড়বাদ আর অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে এই দ্বিতীয় যুদ্ধের সৈন্যদলের সৈন্য ও সেনাপতি মােট একজন— অভয়চরণ দে। সরকারি সাহায্য মেলা স্বপ্ন, তার গৃহস্থ জীবনের দায়দায়িত্বের মধ্য থেকেও নিজের অর্থে তিনি প্রচার করতে শুরু করলেন ভগবদগীতার বাণী। 


কিন্তু সামান্য কাগজ সংগ্রহ করতেও নিতে হবে অনুমতি; তিনি ব্রিটিশ গভর্মেন্টের কাছে আবেদন করেছেন বিশেষ একটি পত্রিকার জন্য কাগজ ব্যবহারের পারমিশানের জন্য। যুদ্ধের আয়ােজনের ব্যস্ততার এই সময়ে আবার পত্রিকার বিলাসিতা! মিলল না অনুমােদন। কিন্তু অভয়চরণ পুনরায় অনুরােধ জানালেন, সভ্যতার এই চরম বিপন্নতা ও সংকটের সময়ে পরমপুরুষ ভগবানের বাণী প্রিন্ট করাই সবচেয়ে জরুরী প্রয়ােজন। অবশেষে মিলল অনুমােদন; প্রকাশিত হল ৪৪-পাতার ইংরাজী ম্যাগাজিন 'Back To Goddhead '— ভগবদ্ধামে প্রত্যাবর্তন বা ভগবৎ দর্শন।


 লেখক, সম্পাদক, প্রুফ সংশােধক, প্রকাশক ও আর্থিক ব্যয়-বাহক একজনই— অভয়চরণ দে। ভারতে ও বহির্বিশ্বে সংকটগ্রস্ত বিশ্ববাসীর কাছে ভগবানের বার্তাবাহিত ঐ পত্রিকা পৌঁছে দেবার ভার পড়ে কোলকাতার একটি স্বনামখ্যাত এজেন্সি থ্যাকার, স্পিংক অ্যান্ড কোম্পানীর। কি বার্তা ছিল সেই প্রথম ব্যাক টু গডহেড’ পত্রিকায়?


পত্রিকার টাইটেলের ঠিক উপরেই লেখা ছিল "Godheadis Light, Nescience is Darkness', অর্থাৎ ভগবান সূর্যস্বরূপ, মায়া অন্ধকার। পত্রিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছিল সনাতন অধ্যাত্মবিজ্ঞানের সারসত্য ও মানুষ যখন ভুলে যায় যে সে তার অস্থায়ী জড় দেহটি নয়, সে চিন্ময় আত্মা, ভগবানের পুত্র, তখন সে নশ্বর দেহের সংগে নিজেকে ভ্রান্তভাবে একাত্ম করে ফেলে, তখন সে মােহ ও অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন হয় ও জাতিবিদ্বেষ, প্রভুত্ব আকাঙ্খায় অভিভূত হয়ে পড়ে। তার অবস্থা হচ্ছে সেই রকম— যে একটি অচেতন মােটরগাড়ীকে জীবন্ত ব্যক্তি মনে করে, জীবন্ত ড্রাইভার সম্পর্কে যার কোন জ্ঞান নেই, ফলে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্বন্ধেও যার কোন ধারণা থাকে না । 


"The defect of the present-day civilization is just like that. This is actually the civilization of Nescience or illusion and therefore civilization has been turned into militarisation. Everyone is fully concerned with the comforts of the body and everything related with the body, and no one is concerned with the Spirit that moves the body, athough even a boy can realise that the motor-car mechanism has little value if there is no driver of the car. This dangerous ignorance of humanity is a gross Nescience and has created a dangerous civilisation in the form of militarisation. This militarisation which, in softer language, is Nationalisation is an external barrier to understanding human relations. There is no meaning in a fight where the parties do fight only for the matter of different coloured dresses. There must be therefore an understanding of human relation without any consideration of the bodily designation of coloured dresses.

“BACK TO GODHEAD” is a feeble attempt by the undersigned under the direction of His Divine Grace Sri Srimad Bhakti Siddhanta Saraswati Goswami Prabhupada, just to bring up a real relation of humanity with central relation of the Supreme Personality of Godhead."


Coloured dresses 'বলতে বিভিন্ন দেশ-জাতিতে উৎপন্ন জড় শরীরগুলিকে বােঝানাে হয়েছে। জড় শরীরগুলি ব্যক্তি নয়; সেজন্য জড়শরীরের বর্ণ-চেহারার ভিত্তিতে নিজেদের গােষ্ঠীবদ্ধ করে যে পারস্পরিক যুদ্ধ, তার মধ্যে গৌরবের কি আছে?

পরবর্তীতে, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে কেবল মানুষের জল্পনা-কল্পনা কখনই একটি সুন্দর সভ্যতা ও সুখী মানব সমাজ রচনা করতে পারে না, পত্রিকা বলেছিল বিশ্বকে, ঠিক যেমন অন্ধকারের দ্বারা দূর করা যায় না অন্ধকারকে ঃ “Without light, any amount of speculation of the human mind (which is also a creation of the material nature) can never restore the living entities to permanent happiness."


পৃথিবীতে প্রতি বছর হাজার হাজার ম্যাগাজিন প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু এই পত্রিকা, ‘ব্যাক টু গডহেড' কোন সাধারণ পত্রিকা ছিল না। এর নামকরণেই উদ্দেশ্য স্পষ্ট। মানব সভ্যতাকে পরিচালিত হতে হবে জীবনের পরম কল্যাণজনক চূড়ান্ত লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া। সমগ্র জড় সৃষ্টির উদ্দেশ্য সেটিই। বিদ্রোহী, ভগবদবিমুখ, জড়া প্রকৃতিতে আবদ্ধ জীবসত্তা সমূহের চেতনা সংশােধন করে ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে সহায়তা করা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেজন্য মানব সমাজকে ভগবদ্গীতার শাশ্বত জ্ঞান দান করেন, শ্রীচৈতন্যদেব ভগবৎ-প্রেমভিত্তিক বিশ্বব্যাপী সংকীর্তন আন্দোলনের সূচনা করেন। জড়বাদ কবলিত, আবেগহীন ভােগসর্বস্ব, রজোগুণে উন্মত্ত মানুষের মধ্যে শুদ্ধ ভগবৎ চেতনাভিত্তিক আন্দোলন অভাবনীয়। কিন্তু সেটিই ছিল শ্রীচৈতন্যদেবের অভিলাষ। অতএব সেটি ফলপ্রসূ হবেই— সেটি একটি বিশ্বজনীন ধর্মে পরিণত হবে— কেননা প্রতি জীবাত্মাই স্বরূপতঃ ভগবদ্ভক্ত, শ্রীকৃষ্ণের সেবক, শাশ্বত কালের জন্য।


শ্রীচৈতন্যদেব পাঁচশাে বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ভগবৎ-প্রেমভিত্তিক কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন পরিব্যাপ্ত হবে পৃথিবীর সমস্ত দেশ, গ্রামে। তাঁর পত্রিকায় 'Congregational Chanting' নিবন্ধে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় ? 


"From this foretelling we can hope that the cult of Sankirtan will take very shortly a universal form of religious movement, and this universal religionwherein there is no harm in chanting the Name of the Lord, nor is there any question of quarrel will continue for years, as we can know from the pages of authoritative scriptures."


Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION