Follow

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বৈকুণ্ঠলোক ।। বৈকুণ্ঠলোক কি রকম ?বৈকুণ্ঠলোকে কি কি দৃশ্য দেখাযায় ? সর্বশুভময় রূপও কার্যকলাপ ,PAGE-237

  সর্বশুভময় রূপও কার্যকলাপ 

PAGE-237


চিন্ময় জগতের সকল অধিবাসীগণের রূপ দিব্য, চিন্ময়।তৃণ, বৃক্ষ, গাভী, ভক্তগণ সকলেই ভগবানের মতই সচ্চিদানন্দময় শরীর-বিশিষ্ট। বৈকুণ্ঠ গ্রহলােকসমূহে শ্রীকৃষ্ণের প্রকাশ। বিগ্রহ শ্রীনারায়ণ-মূর্তি সমূহ বিরাজিত এবং সেখানে তার পার্ষদ ভক্তগণও চতুর্ভুজ, কিরীটি, আভরণ-দিব্যবস্ত্রে ভূষিত। বৈকুণ্ঠের সর্বোচ্চ লােক গােলক বৃন্দাবনে স্বয়ং ভগবান ব্রজেন্দ্রনন্দন বিরাজমান। গােলক-বৃন্দাবনের সকল অধিবাসীগণ দ্বিভুজ। সমস্ত বৈকুণ্ঠ গ্রহলােকে ভগবৎ- সেবা ব্যতীত আর কোন কৃত্য নেই, এখানে ভগবৎসেবা সম্পাদিত হয় শুদ্ধ প্রতির বশবর্তী হয়ে, কোনাে অন্যাভিলাষ নিয়ে নয়, ঠিক যেমন মা যশােদা কৃষ্ণকে ভালবাসেন,সর্বক্ষণ বাৎসল্য-প্রীতিবশতঃ কৃষ্ণের সুখচিন্তা করেন।



অপূর্ব বৃক্ষরাজি বৈকুণ্ঠ গ্রহলােকসমূহে অতুলনীয় শােভামণ্ডিত অরণ্যসমূহ রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত শুভময়। সেই বৃক্ষরাজি সারা বছর পুষ্প ও ফলে পরিপূর্ণ থাকে, কেন না বৈকুণ্ঠ জগতের সবকিছুই চিন্ময় ও সবিশেষ। অপ্রাকৃত বৃন্দাবন ধামের সমস্ত বৃক্ষগুলি কল্পবৃক্ষ (চিন্তামণি প্রকরসদ্মসুকল্পবৃক্ষ)। এই রকম বৃক্ষ দ্বারা কৃষ্ণলােক শােভিত।


ঈর্ষা বা মৎসরতা-শূন্যতা এবং

ভগবানের মহিমা শ্রবণে ঔৎসুক্য 


“যখন অলিগণের রাজা মধুকর ভগবানের মহিমা গান করে উচ্চস্বরে গুঞ্জন করে তখন কোকিল, কবুতর, বক, চক্রবাক, কলহংস, শুক, তিতির ও ময়ূরের কূজন কলরােল থেমে যায়। এইসব দিব্যসুন্দর অপ্রাকৃত পক্ষীকুল তাদের নিজেদের সুরবিতান বন্ধ রাখে কেবল। মধুপরাজের গীত ভগবৎ-গুণগান শ্রবণের জন্য, যা বৈকুণ্ঠের পরম প্রকৃতিকে প্রকটিত করে। সেখানে পাখী ও নরাকার অধিবাসীদের মধ্যে কোনাে পার্থক্য নেই।



 চিদাকাশের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেখানে সব কিছুই চিন্ময় ও বৈচিত্রপূর্ণ। চিন্ময় বৈচিত্র্যের অর্থ হচ্ছে সেখানে সবকিছুই জীবন্ত (animate)। সেখানে জড় বা নির্জীব কোনাে কিছুই নেই। এমনকি ভূমি, বৃক্ষ, তরুলতা, ফুল, পাখী এবং পশুরা সকলেই পূর্ণরূপে কৃষ্ণভাবনাময়। বৈকুণ্ঠলােকের বিশেষ তার নিজের কণ্ঠ-নিঃসৃত শব্দতরঙ্গে আনন্দ উপভােগ করে থাকে, কিন্তু বৈকুণ্ঠের কোকিলময়ুর-চক্রবাকের মতাে সুন্দর কলকণ্ঠ পাখীরাও তাদের নিজেদের কূজনের থেকেও মধুকর-রাজের ভগবমহিমা-গান শ্রবণে অধিক আকর্ষণ অনুভব করে। ভক্তিযুক্ত সেবার অঙ্গগুলি, যা শ্রবণ ও কীর্তন শুরু হয় বৈকুণ্ঠ জগতে অত্যন্ত প্রাধান্যযুক্ত।


যদিও সমস্ত পুষ্পবৃক্ষ যেমন মন্দার, কুন্দ, কুরবক, উৎপল, চম্পক, অর্ণ, পুন্নাগ, নাগ শের বকুল, লিলি এবং পারিজাত সবই অপ্রাকৃত সৌরভে সুগন্ধিত, তবুও তারা তুলসীর তপস্যা, তার মহিমা সম্বন্ধে সচেতন, কেননা তুলসীকে ভগবান বিশেষভাবে পছন্দ করেন - তিনি গলদেশে তুলসী পত্রে রচিত মাল্য ধারণ করেন''ভক্তিযুক্ত সেবায় তুলসী গাছ ও তুলসী পাতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


ভক্তদেরকে প্রতিদিন তুলসীতে জলদান ও ভগবানের পূজার জন্য তুলসী পত্র চয়ন করতে হয়। চিন্ময় জগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে, সেখানে কোন ঈর্ষা বা মৎসরতা নেই। যেমন পুষ্পবৃক্ষগণ তুলসী বৃক্ষের প্রতি সন্ত্রমপূর্ণ, তেমনি সমস্ত ভক্তগণ পরস্পরের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল।”*

Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION