Adsterra 7

         

         

Follow

বাস্তববাদী হতে চাইলে হােন চরম বাস্তববাদী ,একটি সত্যি গল্প । PAGE-218

  



বাস্তববাদী হতে চাইলে হােন চরম বাস্তববাদী ,একটি সত্যি গল্প ।


অরণ্যে একাকী পথ চলছিল এক পথিক। গ্রীষ্মকালের খরতাপ, উত্তপ্ত দুপুর। পথ চলে গেছে এক স্বচ্ছ সরােবরের পাশ দিয়ে। স্বচ্ছ, টলটলে জল, পথিকের দৃষ্টি সেদিকে। এক মনােরম দৃশ্যে দৃষ্টি নিবদ্ধ।হয় পথিকের ঃ জলের মধ্যে একটি সুন্দর বড় আমগাছে ঝুলছে বড় বড় পাকা আম। রসনা রসসিক্ত হয়। গ্রীষ্মের দুপুর;বাইরে উত্তাপ,। ভিতরে ক্ষুধার অনল। আম পেলে ক্ষুন্নিবৃত্তি, রসনা তৃপ্তি দুটিই লাভ হবে, সিদ্ধান্ত নেয় পথিক। 


প্রাক্‌মুহূর্তে, নিভৃত নেপথ্য থেকে কে যেন নিষেধ করে ওঠে। কিন্তু সেই স্বর চাপা পড়ে আসন্ন প্রাপ্তির উত্তেজনায় বিলম্ব না করে আমগুলি নিতে জলে ঝাপিয়ে পড়ে পথিকটি। কিন্তু অচিরেই স্বপ্নভঙ্গ! সত্যিই আম দেখেছে পথিক, আদর্শ বাস্তব। কিন্তু ধরতে গিয়ে মিলছে শুধু জল, তরল জল। দুর্ভাগ্যবশতঃ, সাঁতার জানতাে না সে। নাকানি-চোবানি খেতে হল। অনেক, জল গিলতে হল অনিচ্ছা সত্ত্বেও, তারপর জীবনের অন্তিম অতিথি, অনাহুত, এসে কড়া নাড়ল –“সময় হয়েছে যাবার”।


একই পথ দিয়ে আসছিল দ্বিতীয় পথিক। বনপথে সরােবর, সরােবরে কাচের মতাে জল। জলে সুদৃশ্য আমগাছ, হলুদ ফল। রসনা সরব হয় ঃ “আস্বাদন করতে হবে,জল থেকে নিতে হবে আম।” নিভৃত নেপথ্য কণ্ঠ- “জলে নয়, উপরে দেখ।” স্তব্ধ উদ্যত পথিক। চোখ তুলে উপরে তাকায় সে—দৃষ্টিপথে অনন্য সুন্দর এক আমগাছ। শাখায় শাখায় ঝুলছে। রসভর্তি রঙীন রসাল। অবিলম্বে রসাল-বৃক্ষে আরােহণ পথিকের, রসান্বিত আস্বাদন, তুষ্টি, পুষ্টি।


এই জড় জগতের জড় উপাদানের মধ্যে প্রতিফলিত জীবনের জলছবি। গাছ, মানুষ, বাড়ীঘর—জড় বৈচিত্র্য। স্নেহ-প্রীতিবিনিময়, মধুর স্বপ্নবিলাস। কিন্তু চরম বাস্তব কি? মাতা পুত্রকে স্নেহালিঙ্গনে আঁকড়ে ধরছেন, পুত্রের  জীবনাবসানে পুত্রের রূপ,  শরীর অদৃশ্য, হাতে কিছু ক্যালসিয়াম ফসফেট, অস্থিভস্ম। সমস্ত দেহগুলি জড়পদার্থ, পাঁচটি মৌল জড়  উপাদানের সমাহার। জড় উপাদানে নানা রূপ, জগৎ-বিভাস। সংসার সাগরবেলার বালুকাতটে কত বিচিত্র ছবির নকশা, কালতরঙ্গের ‘জল’ মুছে দিয়ে যায় সব চিত্র। এই কি আসল বাস্তব? মরুভূমিতে মরীচিকা’, ‘মিরেজ, মরুযাত্রীর আতঙ্কের বস্তু। তৃষিত শ্রান্ত দেহ-মন যখন জলের আকুলতায় অধীর, তখন দুরে দেখা যায় চকচকে জলপূর্ন  জলাশয়, পাশে নানা  গাছের অবয়বরেখা। শরীরের শেষ শক্তি বিন্দু দিয়ে সেখানে এগিয়ে যাওয়া, তারপর যন্ত্রণাত আবিষ্কার :: জলাশয়, গাছপালা —সব ভোঁভা ।   


কিছুই নেই শুধু পড়ে আছে নিরেট বালি। কেবল বালুকারাশি-- আদিগন্ত বিস্তৃত বালির সাগর। সমস্ত মানুষের দেহগুলি জড় উপাদানের সমাহার, আর জড় উপাদান, ‘dull matter’, ব্যক্তি নয়। অণু-পরমাণুর সাগর। জড়ের মধ্যে ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন, চেতনের আভাস। 


স্বজন-আত্মজা-জায়া বলে যাদের সত্য মনে হয়, কাল-তরঙ্গে তাদের ছবি হারিয়ে যায়, পড়ে থাকে অস্থি-ভস্ম ক্যালসিয়াম-ফসফেট। সংসার মায়ামরু মরুভূমির মরীচিকাও সত্যি, কিন্তু সেটি মরীচিকাই, বাস্তব জলাশয় নয়।। তেমনি এই জড়জগৎও সত্যি, বাস্তব, কিন্তু মরীচিকার মতােই অত্যন্ত অস্থায়ী। 


কালস্রোতে ভেসে যায় জীবন-যৌবন-ধনমান’ (রবীন্দ্রনাথ)। মরীচিকা কিন্তু একটি সত্যতার প্রমাণ ঃ যথার্থ জলাশয়, যথার্থ বৃক্ষসারি রয়েছে। তেমনি এই মৃত্যুসংসার সাগর’ রূপ মরীচিকার জলাশয় এই সত্যতার অভ্রান্ত প্রমাণ ও প্রকৃত বাস্তব জগৎ, বাস্তব সম্পর্ক রয়েছে । মরীচিকার মতাে ক্ষণস্থায়ী, অসৎ' বা অবাস্তব নয়, শাশ্বত বাস্তব, চিরন্তন সত্য,সৎ।


Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Ads Tera-5

         

         

         

Adsterra Social Bar

Popular Posts

adstera-6

         

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION

Adstera 1