Follow

যোগব্যায়াম ,বজ্রাসন ,বজ্রাসনের প্রণালী ,বজ্রাসনের উপকারিতা

  বজ্রাসন


 জঙঘাভ্যাং বজ্রবৎ কৃত্বা গৃঢ়পার্শ্বে পাদবুভৌ।। 

বজ্ৰাসনং ভবেদেতৎ যােগীনাং সিদ্ধিদায়কম।।



বজ্রাসনের প্রণালী —হাঁটু ভেঙে পায়ের পাতার অপর পিঠ নরম কম্বলের ওপর রেখে গােড়ালির উপর পাছা রেখে  ছবির মত সােজা হয়ে বসতে হবে  এবং উভয় হাত উভয় জানুর উপর রাখতে হবে । এই অবস্থায় গুহ্যদ্বার যাতে গােড়ালিদ্বয়ের মাঝখানে থাকে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে । প্রথম প্রথম অভ্যাসের সময়ে হাঁটুতে কিঞ্চিৎ বেদনাবােধ হতে পারে, কয়েকদিন অভ্যাসের পর এইভাবে বসতে আর কোন কষ্ট হয় না। 



তবে হাঁটু ফোলা থাকলে (হাঁটুতে জল হলে) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে অভ্যাস করা উচিত। এই আসন প্রথম প্রথম ৩০ সেকেন্ড করে ৪ বার অভ্যাস করতে হয়।


বুক ভর্তি নিশ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে দশ থেকে পনেরো সেকেন্ড ধরে ছাড়তে হবে ,এবং দৃষ্টি কে নাকের ডগায় রাখলে আরো ভালো হয় ,যদি প্রথম প্রথম দৃষ্টি নাকের ডগায় রাখতে গিয়ে মাথাটা একটু যন্ত্রনা করে তাহলে ধীরে ধীরে অভ্যাস করতে হবে। 

এই আসন অভ্যাস করলে দেহের নিম্নভাগের স্নায়ু ও পেশী বজ্রের মত কঠিন ও মজবুত হয়। তাই এই আসনের নাম বজ্ৰাসন।





বজ্রাসনের উপকারিতা :

১.এই আসন  অভ্যাসের ফলে পায়ের বাত , পায়ের গোড়ালির বাত ,পায়ের গেঁটেবাত, ক্রমশ সেরে ওঠে। 


২.এই আসন  অভ্যাসের ফলে যেহেতু পায়ের উপর এবং পায়ের পাতার উল্টোদিকের উপর চাপ দিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে বসতে হয় তাই পায়ের পেশি শক্ত হয় ও মজবুত হয়। 


৩.বিশেষত এই আসন অভ্যাসের ফলে দেহের নিম্নগামী স্নায়ু  ও পেশি বজ্রের মতো কঠিন ও মজবুত হয় তাই এই আসনের নাম বজ্রাসন। 


৪.এই আসন অভ্যাসে সময়ই আমাদেরকে মেরুদন্ড ঘাড় এবং মস্তিস্ককে সোজাভাবে রেখে দৃঢ় ভাবে বসতে  হয় এবং ফুসফুসে সম্পূর্ণ নিঃস্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়তে হয় এরফলে আমাদের শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায় এবং রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা অনেকটা বেড়ে ওঠে। 


৫.যারা খাবার খেলে খাদ্যদ্রব্য সহজে পরিপাক হয় না অর্থাৎ যাদের হজমজনিত সমস্যা রয়েছে খাবারের পর 5 থেকে 10 মিনিট  ধরে  নিয়মিত করলে তাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়  এবং খাদ্যদ্রব্য সহজে পরিপাক হয়। 


৬.এই আসন গোমুখাসন এর মত অনিদ্রা  জনিত সমস্যা দূর করে থাকে অর্থাৎ এই আসন বিশেষত খাবারের পর করা উচিত এর ফলে অনিদ্রা দূর হয় এবং খাদ্যদ্রব্য সহজে পরিপাক হয়। 


৭.এই আসন অভ্যাসে সায়টিকা, পায়ের বাত ইত্যাদি হয় না, আহারের পরে এই আসন ৫/১০ মিনিট অভ্যাস করলে ভুক্তদ্রব্য সহজে পরিপাক হয়। অজীর্ণ রােগীদের আহারের পর এই আসন অভ্যাস করা ফলপ্রদ।



Subscribe For Latest Information






Comments

This Blog is protected by DMCA.com

Subscribe

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

Popular Posts

Email Subscription

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

EMAIL SUBSCRIPTION